ফ্রিল্যান্সিং পরিচিতি, ফ্রিল্যান্সিং পেশা কি? আউটসোর্সিং কি?

internet-home-work

ফ্রিল্যান্সিং পরিচিতি

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে এবিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারনা থাকা দরকার। ফ্রিল্যান্সিং মানে হচ্ছে মুক্তভাবে কোনো কিছু করা। অর্থাৎ কারো অধীনে না থেকে নিজের ইচ্ছামতো কোনো কিছু করাটাই ফ্রিল্যান্সিং। আমাদের দেশে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং সাংবাদিকতা করে। পশ্চিমা দেশে এই হার অনেক বেশি। অনেকে আবার ফ্রিল্যান্স কনসালটেন্সি করে। বিভিন্ন জনকে ব্যাবসায়িক বা ব্যাক্তিগত পরামর্শ দিয়ে থাকে, এটাও ফ্রিল্যান্সিং এর পর্যায়ে পরে।

অনলাইনে আমরা যারা কাজ করি, তারা কখেনোই কোনো নির্দিস্ট একজন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করি না। ক্লায়েন্ট চয়েজ করা স্বাধিঅনতা বামাদের সবসময় রয়েছে। আমরা কার কাজ করব আর কার টা করবো না সেটা আমরা নিজেরাই ঠিক করতে পারবো। কোনো ক্লায়েন্টের কাজ ভালো না লাগলে তার সাথে কথা বলে আমরা প্রজেক্ট সমাপ্ত করতে পারি। আবার চাইলে কারো কাজ লং টাইম কন্টিনিউ করতে পারি। সবটাই ফ্রিল্যান্সারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।

আসলেই ফ্রিল্যান্সাররা স্বাধীন?

সাধারনত ফ্রিল্যান্সিং বলতে মুক্ত পেশা বোঝানো হয়। অর্থাৎ এখানে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করা যায়। আসলে ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। এখানে পেশাজীবির কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রথাগত চাকুরের চেয়ে অনেক বেশি। এখানে আপনি শুধু কোন ক্লায়েন্ট এর কাজ করবেন আর কোন ক্লায়েন্টের কাজ করবেন না, তা নিজে নির্ধারন করতে পারবেন। এজন্যই এটা ফ্রিল্যান্সিং। ক্লায়েন্টের সঙ্গে বোঝাপড়া হয়ে গেলে এরপর আপনাকে তার ইচ্ছে মতো কাজ করতে হবে। ক্লায়েন্টের চাহিদা, কাজের ধরন, ডেট লাইন অন্যান্য রিকোয়েরমেন্ট সব আপনাকে বলে দেবে, আপনি তার চাহিদা মতো কাজ করে দেবেন, ব্যস হয়ে গেল একটি প্রজেক্ট। কাজ সমাপ্ত হলে পেমেন্টে পেয়ে যাবেন। আবার চাইলে অগ্রিমও পেমেন্ট নিতে পারেন।

আউটসোর্সিং কি?

এবার আসি আউটসোর্সিং এর ব্যাপারে। আমি এখানো কোনো তাত্বিক বা আভিধানিক সংগায় যাব না। কারন এটা নিয়ে কোনো রিসার্চ করার ইচ্চা আমার আপাতত নেই। আমি সাধারনভাবে যা বুঝি, তাই শুধু এখানে ব্যাক্ত করবো।

আউটসোর্সিং হচ্ছে নিজের কাজ অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেয়া। একটি ব্যাখ্যা দিলেই বষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে। মনে করুন বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি “এটুজেড ইভেন্ট সলুশন”। কোম্পানিটি তাদের কার্য পরিধি বৃদ্ধি করতে চাইলো। এজন্য তারা ইমেইল মাকের্টিং এর পরিকল্পনা করলো। সুতরাং তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির ইমেইল সহ কন্টাক্ট ইনফরমেশন দরকার হবে। এখন এই ইমেইল অ্যাড্রেস কালেকশন এর ব্যাপারটা তারা কিভাবে সম্পন্ন করবে? হয় কোম্পানিটি নিজেদের জনবল দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করবে, নয়তো বাইরের এমন কাইকে দিয়ে করাবে যার উপর কাজের ব্যাপারে আস্থা রাখা যায়। কোম্পানিটিতে যদি এমন কাজ করার মদো লোকবল না থাকে তবে তাকে নতুন করে লোক নিয়োগ দিতে হবে। এই কাজটি তাদের কাছে ঝামেলার মনে হলো, সুতরাং তারা সিদ্ধান্ত নিলো প্রতিষ্ঠানের বাইরের কারো কাছ থেকে চুক্তি ভিত্তিতে কাজটি করিয়ে নেবে। এতে তাদের কাজও উদ্ধার হবে আবার ভারমুক্তও থাকবে। তারা দশ হাজার ইমেইল সংগ্রহের অর্ডার দিলো বাইরের কোনো ব্যাক্তিকে। এটাই হচ্ছে আউটসোর্সিং।

বিদ্র: এই পোষ্টটি একেবারেই নতুন যারা, শুধুমাত্র তাদের জন্য। যাদের কোনো ধারনা নেই এই পেশার ব্যাপারে, কিন্তু কাজ করতে আগ্রহী এই জায়গায়। কোনো বিষয়ে অস্পস্টতা থাকলে কমেন্টে জানাবেন। আউটসোর্সিং বা অনলাইনে আয় নিয়ে নিয়মিত পোষ্ট করা হবে, সুতরাং সঙ্গেই থাকুন। ধন্যবাদ।

Al Amin Azad Mainly Web Developer. But Blogging his passion. He loves to teach people that he know. He has a IT firm who are providing their service all over the world.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 10 =