ঘরে বসে অনলাইনে অর্থ উপার্জন কিভাবে?

Make-Money-Online

মাত্র কয়েক বছর আগেও ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকামের বিষয়টিকে হালকা করে দেখতো। অনেকেই বলতো ভুয়া। আবার কারো জিজ্ঞাসা ছিলো ‘কেউ কি কখনো পেয়েছে?’। কিন্তু এই ২০১৫ সালে এসে অনলাইনে যে ইনকাম করা যায় তা নিয়ে কেউ আর সন্দেহ পোষণ করে না। কিন্তু অনেকেই জানতে চায়, কিভাবে ইনকাম করা যায়। আমরা পারবো কিনা? এই বিষয় নিয়েই আজকের পোস্ট। কি কি ভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়?

অনলাইনে কাজ করতে হলে আপনার যে যে গুন থাকা দরকার, সেই ব্যাপারে অন্য একটি পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং আমরা কিভাবে আয় করতে পারবো সেই আলোচনায় চলে যাই।

ব্লগিং বা নিজের ওয়েব সাইট থেকে:

নিজের একটা পারসোনাল ব্লগ বা ওয়েব সাইট হচ্ছে অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। নিজের ব্লগের কাজের ব্যাপারে সময়ের কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। আপনার সুযোগমতো কাজ করতে পারবেন। নিজের ব্লগ থেকে পশ্চিমা দেশের ব্লগাররা মাসে হাজার থেকে লাখ ডলারের বেশি ইনকাম করছে। বাংলাদেশে যদিও বাংলা ব্লগিং এখন ব্যাপক মাত্রা পায়নি, তবে দেশের মানুষের যে হারে ইন্টারনেটের প্রতি সম্পৃক্ততা বাড়ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলা ব্লগিং একটা অন্যরকম উচ্চতায় ইঠে আসবে। এখনো কিছু নিয়ম নীতির মধ্যে থেকে বাংলা ব্লগিং থেকে আয় করা সম্ভব। ব্লগিং ক্যাটাগরী থেকে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে:

বাংলাদেশের ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার এখন পর‌্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে মার্কেটপ্লেস এর কাজ। দেশ থেকে হাজার হাজার তরুন তরুনী এখন বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে সগৌরবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সারা পৃথিবীর মানুষ যেখানে দশ বছর আগেও জানতো বাংলাদেশ হচ্ছে শ্রমিকের দেশ। তারা শুধু রেস্টুরেন্টে আর মেষ চড়াতে জানে। সেখানে আজ অবাক হয়ে বিশ্ব দেখছে, না এরা শুধু রান্না করাই জানে না কম্পিউটারের প্রোগাম বানাতেও জানে।

বর্তমানে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গুলোর মধ্যে রয়েছে, ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্স, ফিবার, পিপল পার আওয়ার ইত্যাদি।এছাড়া বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি মার্কেটপ্লেস হচ্ছে বিল্যান্সার। এটি সম্প্রতি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মার্কেটপ্লেসে কিভাবে কাজ করা যাবে তা নিয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনা আসছে।

ইকমার্স শপের মাধ্যমে:online-earning

আপনি ঘরে বসে ইকমার্স শপের মাধ্যমেও অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এজন্য অবশ্য আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অনলাইনে মার্কেটিং এর জন্য অধিক সংখ্যক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। আর ঘরে বসে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পন্য উৎপাদন করতে হবে। আপনার সুখ্যাতি একবার ছড়িয়ে পড়লে, আপনাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

ইউটিউবের মাধ্যমে আয়:

ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমেও আপনি ভালো ইনকাম করতে পারেন। এইজন্য আপনাকে আপনার চ্যানেলে ভালো কিছু ভিডিও আপলোড করতে হবে। যাতে নিয়মিত ভিজিটর পান। কিভাবে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায় তার জন্য আপনি এই লিখাটি পড়তে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে:

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনলাইন থেকে ভালো টাকা ইনকামের সুযোগ রয়েছে। তবে এই জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আপনার যে ল্যান্ডিং ওয়েব সাইট থাকবে, সেখানে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর আসতে হবে। বিশেষত ওয়েস্টান কান্ট্রির ভিজিটর আসতে হবে, যারা কেনা-কাটা অনলাইনে করে থাকে। AmazoneBay, Payoneer, ThemeForest উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ দেয়। এছাড়া আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুযোগ দেয়। তবে সাবধান: অনেক প্রতিষ্টান রয়েছে যারা এফিলিয়েটারদেরকে প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে। এরা প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠান। এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়, তা এই লিংকের আর্টিকেল থেকে বুঝতে পারবেন।

সংক্ষেপে আমি ইনকামের ধরনগুলো বলার চেষ্টা করলাম। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে হবে। তবেই ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝতে পারবেন। ওপরের কাজগুলোর মধ্যে আবার অনেক ভাগ রয়েছে। যেমন মার্কেটপ্লেস থেকে হাজারো রকমের কাজ পাওয়া যায়। তা প্রত্যেকটি আবার স্বতন্ত্র আলোচনার বিষয়। সবকিছুই একে একে তুলে ধরা হবে। এই পোস্টটি একেবারেই নতুনদের জন্য। যারা অনলাইনে আয় করে নিজেকে অধিক স্বাবলম্বী করতে চান। ভালো লাগলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আর স্বাবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন আমাদের ব্লগে। নতুন কোনো পোস্ট হলে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে ইমেইলের মাধ্যমে।

Al Amin Azad Mainly Web Developer. But Blogging his passion. He loves to teach people that he know. He has a IT firm who are providing their service all over the world.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four − 3 =