ব্লগিং কি? ব্লগার কারা? ভ্রান্ত ধারনার অবসান

how-to-blogging

ব্লগিং কি:

সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগিং বা ব্লগার খুব একটি আলোচিত শব্দ। ব্লগার নাম শুনলেই মনে হয়, ধর্মবিরোধী কোনো কার্যকলাপ কিন্তু ব্যাপারটি তা নয়। ব্লগাররা আসলে তাদের মনের কথা ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজের মতো করে নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন। তাদের এই মত প্রকাশের বিষয়টি কারো পক্ষে বা কারো বিপক্ষে যেতেই পারে। এরাই হচ্ছেন ব্লগার। ব্লগারদের অনলাইনে এই লেখালেখির মাধ্যমে মত প্রকাশকেই বলা হয় ব্লগিং। সুতরাং কোনো সামাজিক কল্যানমূলক কাজেরও ব্লগিং করা যেতে পারে।

কিভাবে ব্লগিং করতে হয়:

ব্লগিং দুইভাবে করা যায়। একটা হচ্ছে মুক্ত প্লাটফর্মে অন্যটি নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইটে। মুক্ত প্লাটফর্মে ব্লগিং করতে হলে আপনাকে ওই ব্লগের নিয়ম-কানুন, শর্ত মেনে ব্লগিং করতে হবে। অন্যদিকে নিজের ব্লগে ব্লগিং করার জন্য নিজের ইচ্ছাই আইন। আপনি এখানে সুপার পাওয়ারের অধিকারী। আপনি যেভাবে চাইবেন সেইভাবেই হবে।

উন্মুক্ত বা সম্মিলিত প্লাটফর্ম এ ব্লগিং এর সুবিধা:

উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হচ্ছে হাজারো ব্লগার আর পাঠকের মিলনমেলা। এখানে আগে থেকেই হাজার হাজার পাঠক বর্তমান থাকে। আপনাকে লেখা প্রকাশের পরে পাঠক নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ব্লগের রেগুলার পাঠক আপনার লিখা পড়ে মন্তব্য করবে। যে সুবিধা আপনি নিজস্ব ব্লগে পাবেন না। আপনার লেখায় কোনো ত্রুটি থাকলে অভিজ্ঞ ব্লগাররা তা ধরিয়ে দিতে পারবেন। এমন কয়েকটি উন্মুক্ত ব্লগিং প্লাটফর্মের নাম: বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সামহোয়ার ইন ব্লগ, প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ টেকটিউনস, ধর্মবিরোধী যুক্তিতর্কের ব্লগ মুক্তমনা

উন্মুক্ত বা সম্মিলিত প্লাটফর্ম এ ব্লগিং এর অসুবিধা:

উন্মুক্ত প্লাটফর্মে সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে, আপনি আপনার ইচ্ছামতো কোনো লেখা চাইলেই লিখতে পারেন না। আপনার লেখা অবশ্যই ওই ব্লগের টার্মস এন্ড কন্ডিশনের সাথে সঙ্গতিপূর্ন হতে হবে। অন্যথায় আপনার লেখা ব্লগের এডমিন মুছে দিতে পারেন। এসব ব্লগে আপনি তাদের বেঁধে দেয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে ব্লগিং করতে পারবেন না। উন্মুক্ত প্লাটফর্মে লেখা মানে, আপনি নিজে পরিশ্রম করে অন্য একটি প্লাটফর্ম প্রমোট করে দিচ্ছেন। আপনার নিজের কোনো স্বত্ম তৈরি হচ্ছে না।

নিজের ব্লগে ব্লগিং করা:

নিজের একটি ব্লগিং প্লাটফর্ম দাঁড় করানো বেশ পরিশ্রমের ব্যাপার। এটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও বটে। চাইলেই আপনি মুহূর্তের মধ্যে এটি করে ফেলতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কাজে লেগে থাকতে হবে। নিজস্ব ব্লগিং হচ্ছে, আপনি আপনার লেখা আপনার নিজের সাইটে প্রকাশ করবেন। পাঠকরা আপনার সাইটে এসে পড়বে। এখানে আপনার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে লেখা প্রকাশের। আপনি কি লিখবেন তা আপনারই ইচ্ছা। তবে ব্লগাররা পাঠকের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখেই ব্লগিং করে থাকে।

ব্লগার কারা:

ব্লগিং নিয়ে অনেক কথা বললাম। কিন্তু ব্লগার কারা তা বলা হয়নি। এক কথায় বললে, যিনি ব্লগিং করেন তিনিই ব্লগার। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যারা মত ব্যক্ত করে লেখালিখি করেন তিনিই ব্লগার। আরো সহজভাবে বলতে গেলে, ব্লগার হচ্ছেন একজন অনলাইনের গল্পকারক। তিনি অনলাইনে তার গল্প বলে যান, আর পাঠকেরা তার গল্প পড়তে থাকেন। সেই গল্প অনেকের ভালো লাগতে পারে আবার অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে।

ব্লগিং এর বিষয়:

যেকোনো বিষয় নিয়ে আপনি ব্লগিং করতে পারেন। ধর্মের বিপক্ষে আপনি যেমন ব্লগিং করতে পারেন, আবার তেমনি ধর্মের পক্ষেও ব্লগিং করতে পারেন। একজন নাস্তিক যেমন তার ধর্মবিরোধী বিষয়গুলো লেখনির মাধ্যমে তুলে আনেন, একইভাবে একজন আস্তিক ধর্মের সুন্দরতম দিকগুলো ব্লগিং এর মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরতে পারেন।

আবার শিক্ষা, স্বাস্হ্য, খেলাধুলা, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তিসহ যেকোনো বিষয় নিয়ে ব্লগিং করা যায়। আসলে ব্লগিং একটি প্রক্রিয়ার নাম, আর এই প্রক্রিয়ার যারা বাহক তারা হচ্ছেন ব্লগার।

কেনো ব্লগিং করা:

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ব্লগার তার নিজের গল্প অন্যকে কেনো বলবেন? এর অনেক উত্তর হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে, অন্যদের জানার আগ্রহ। তার গল্প অনেকেই শুনতে চায়, তাই তিনি গল্প বলেন। একটা উদাহরন দিলে ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে। একজন ডাক্তার সর্বসাধারনের জন্য প্রতিদিন একঘন্টা সময় বরাদ্দ করলেন যে, এই সময়ে তিনি কোনো টাকা পয়সা ছাড়া রোগী দেখবেন। যারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয়। একমাস তিনি রোগি দেখলেন। তিনি কিছু রোগের পুনরাবৃত্তি দেখতে পেলেন। তার কাছে মনে হলো এমন রোগি আরো আসতে থাকবে। এর অর্থ হচ্ছে তাকে একই প্রেসক্রিপশন বার বার দিতে হবে । এবার তিনি ওই রোগ সমন্ধে বিস্তারিত একটি প্রবন্ধ লিখলেন। রোগের উপশম কিভাবে হবে তার প্রেসক্রিপশনও তিনি দিয়ে দিলেন। এই প্রবন্ধটি ডাক্তার তার ব্লগে দিয়ে দিলেন এবং তার নিচে কমেন্ট করারও অপশন চালু রাখলেন। দেখা গেলো, অনেকেই কমেন্ট করে রোগ সমন্ধে আরো ক্লিয়ার হতে চেয়েছে, যা প্রবন্ধে উল্লেখ ছিলো না। এখানে ডাক্তার একজন ব্লগার। তিনি তার ব্লগিং এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত তথ্য সাধারনের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছেন।

সহজভাবে বললে, নিজের ভয়েচ পাশের জন থেকে অনেক দূরে হাজারো জনের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যই ব্লগিং করে থাকে। ব্লগারদের কোনো দেশ, কালের সীমানা নেই। তারা বাংলাদেশের একটি প্রান্তে বসে বিশ্বের অপর প্রান্তে তাদের বার্তা পৌাছে দিতে পারেন।

এভাবে আপনিও চাইলে আপনার তথা অন্যকে জানানোর জন্য ব্লগিং করতে পারেন। ব্লগিংকে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে অনলাইনে থেকে অর্থও ইনকাম করা যায়। আশা করি ব্লগিং এর বিষটি বুঝতে পেরেছেন। যদি কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকে তবে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

Al Amin Azad Mainly Web Developer. But Blogging his passion. He loves to teach people that he know. He has a IT firm who are providing their service all over the world.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 9 =